খাদেমুল মোরসালিন শাকীর,নীলফামারী প্রতিনিধি \
প্রশিক্ষণ শেষ হলেও প্রশিক্ষাণার্থীদের মাঝে প্রশিক্ষণের সম্মানী টাকা দেয়া হয়নি। লকডাউনেও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৪৮ জন উপকারভোগী প্রশিক্ষণের টাকার জন্য জড়ো হয়ে অফিসে ভিড় করেছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের আওতায় উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি’র আওতায় দুই মাসব্যাপি সেলাই, এমব্রয়টরি, নকশি কাঁথা ও শতরঞ্জি এ ৪টি ট্রেডে এদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের টাকা না পেয়ে উপকারভোগীরা বাড়ি ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছে।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস হতে ‘‘উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি’র আওতায় দুই মাসব্যাপি সেলাই, এমব্রয়টরি, নকশি কাঁথা ও শতরঞ্জি এ ৪টি ট্রেডে উপজেলার ৩ টি ইউনিয়নের ৪৮ জনের প্রশিক্ষণ গত ১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। প্রতি ট্রেডে ১২ জন করে নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন প্রতি ১৬ জন করে ৪৮ জন এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রতিদিন ২৫০ টাকা হারে প্রতি প্রশিক্ষণার্থীরা ১৫ হাজার টাকা করে পাবে। প্রশিক্ষণ সমাপনি দিনে উপকারভোগীদের সনদ ও টাকা দেয়ার কথা থাকলেও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তা দেননি। প্রশিক্ষণের টাকা উপকারভোগীদের মাঝে পরবর্তীতে দেয়া হবে বলে অফিস থেকে জানানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষের চারদিন পর লকডাউনের প্রথম দিন দুপুরে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৪৮ জন উপজেলা পরিষদ চত্বরে টাকা নেয়ার জন্য ভিড় করে। তাদেরকে টাকা না দেয়ায় আজও খালি হাতে তাদের বাড়ি ফেরত যেতে হয়েছে।
একদিকে লকডাউন অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি খারাপের সময় আজ নয় কাল করে ঘোরানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চাঁদখানা ইউনিয়নের মোর্শেদা বেগম (৪০), মৌসুমী আখতার (২৩), পুটিমারী ইউনিয়নের আঁখি মনি (২৫) ও নিতাই ইউনিয়নের মজিদা বেগম (৩০) গণমাধ্যমকর্মীদের জানান- প্রশিক্ষণ শেষের দিন প্রশিক্ষণের টাকা দেয়ার কথা থাকলেও ওই দিন টাকা দেয়া হয়নি। আমাদেরকে অফিসে ভোটার কার্ড নিয়ে এসে টাকা নিতে বলেছে। তাই আমরা আজ এসেছি। কিন্তু আমাদের সকলের কাছ থেকে ভোটার কার্ড ঠিকই নিয়েছে কিন্তু টাকা দেয়নি। ভোটার কার্ড নেয়ার পর আমাদের বলা হয়-পরবর্তীতে আমরা জানাবো কবে টাকা দেয়া হবে। আক্ষেপ করে তারা আরও বলেন-লকডাউনের দিন ভ্যান রিক্সা পাওয়া যায়নি কষ্ট করে এসেছি। তারপরও আমাদের টাকা দেয়া হলো না।
আয়বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বিআরডিবি ব্যতিক্রমধর্মী বেশ কিছু প্রকল্পের মধ্যে “উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি” দারিদ্র্য বিমোচন মূলক একটি প্রকল্প। সে প্রকল্পের আওতায় দারিদ্র বিমোচনে ৩টি ইউনিয়নের ৪৮ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে প্রশিক্ষণের টাকা দিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু সে টাকাটি না পাওয়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেও কাজে লাগাতে পারছে না এসব নারী। দারিদ্র বিমোচন ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বাঁধ সেজেছে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা। টাকার জন্য আর কতদিন ঘুরতে হবে জানি না। এভাবে আক্ষেপ করে গণমাধ্যমকর্মীদের উপকারভোগীরা জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু তাহের জানান- এনআইডি কার্ড যাইয়ের জন্য প্রশিক্ষণের সম্মানীর টাকা দেয়া হয়নি। যাচাই শেষে তাদেরকে টাকা দেয়া হবে। যাচাই করেতো প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা, কিন্তু আপনি প্রশিক্ষণ শেষে যাচাইয়ের কথা বলছেন গণমাধ্যম কর্মিরা এ কথা বললে তিনি বলেন- তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে ঠিক কিন্তু ফাইলে তাদের এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়নি, তাই নতুন করে যাচাই করতে হবে। অন্যদিকে তিনিই আবার জানান- উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার বিষয়টি জানেন। আমরা আগামী বুধবার স্যারের হাত দিয়ে টাকা বিতরণ করবো।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কমিটির সভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম বলেন অন্য কথা। তিনি বলেন- তাদেরকে ঋণ দেয়া হবে তাই এনআইডি কার্ড যাচাই করছে তারা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪৮ জনকে প্রশিক্ষণের টাকা দেয়া হয়নি গণমাধ্যমকর্মীরা এ প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি জানেন না, এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নিবেন বলেও জানান।
Leave a Reply